প্রকাশিত: Wed, May 17, 2023 2:42 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 3:23 AM

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক চীন, রাশিয়া বা অন্য দেশ দিয়ে নির্ধারিত হয় না: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর



 জাফর খান: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা ডেপুটি এসিসটেন্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার চলতি সপ্তাহে রাজধানীতে এক সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলেন। বাসস 

তিনি বলেন, বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সম্পর্কে আবদ্ধ বাংলাদেশ এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা যে ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক (আইপিও) প্রকাশ করেছে সেটির অনেক কিছুর সঙ্গে ইউএস ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্রাটেজির (আইপিএস) অভিন্নতা রয়েছে।

এছাড়াও উভয় দেশের অবকাঠামো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি গড়ে তুলতে গভীর আগ্রহী তার দেশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এর আগে বাংলাদেশ অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্বপ্ন নিয়ে গতমাসে আইপিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে ঢাকার যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে তার সঙ্গে আইপিএসের মিল রয়েছে।

এদিকে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তার এমন মন্তব্যটি এসেছে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্যের কয়েকমাস পর। এর আগে পিটার হাস বলেছিলেন, ওয়াশিংটন দেশসমূকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করে না।  কারণ আমরা আশা করি না যে প্রতিটি দেশ আমাদের মতো চীনের একই ভাবে মূল্যায়ন করবে।

আইপিও ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অষ্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও জাপানের অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত ফোরাম কোয়াডের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোও স্বাগত জানিয়েছে। 

আখতার বলেন, বাংলাদেশের আইপিওতে ‘সমুদ্র নিরাপত্তা’ বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য  কোয়াড সদস্যদের কাছেও সম গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে তার দেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারে বলেও জানান তিনি। 

এছাড়া নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্টের (জিএসওএমআইএ) অবশিষ্ট বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে  যা হি টু জির আওতায় একটি মৌলিক চুক্তি। 

এসময় র‌্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞার পর এই এলিট বাহিনীর ‘ বিচার বহির্ভূত হত্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে’ যাওয়ায় ওয়াশিংটন সন্তুষ্ট বলেও উল্লেখ করেন আখতার।

তবে বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও এটির প্রয়োগের বিষয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আফরিন আখতার তার দেশ সঠিক পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সংকটের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানের উপায় খুঁজতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান।

তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া তৃতীয় কোন দেশে পুনর্বাসন উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আরো বেশি রোহিঙ্গাকে নিতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সীমিতাকারে পাইলট কর্মসূচি শুরু করেছে । তবে এ সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলে জানান তিনি।  

এছাড়াও  উভয় দেশের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ইস্যুতে বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের ওপর তার দেশ জোর দিচ্ছে বলেওঁ জানান তিনি।

তবে এ প্রসঙ্গে  মার্কিন ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক পরিবেশ উন্নতির পরামর্শ দেন তিনি। উল্লেখ্য,  ঢাকায় ১২ থেকে ১৩ মে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দান করেন আফরিন আখতার। সম্পাদনা: শামসুল বসুনিয়া